আজ বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ০৫:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
«» নাচোলে বয়সভিত্তিক সাঁতার প্রতিযোগীতার উদ্বোধন হয়েছে «» চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা জাসদের উদ্দ্যোগে বিভিন্ন দাবিতে গণমিছিল ও সমাবেশ «» বাংলাদেশ ফুটবল দলকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা «» শিশু তুহিনের হ’ত্যাকারী বাবার পক্ষে কোনো আইনজীবী লড়বেন না «» বেনাপোল কাস্টম হাউস এখন জয় জয় ধ্বনিতে মুখরিত «» যশোরের শার্শায় এইডস সচেতনতায় করনীয় শীর্ষক আলোচনা সভা «» নাচোলে প্রতিবন্ধি শিশুকে হুইলচেয়ার প্রদান করলেন ইউএনও «» সিরাজগঞ্জ সদরে যমুনায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ মাছ ধরার অপরাধে ০৭ জেলের কারাদন্ডঃ «» গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে র‌্যালি «» ভোলাহাটে স্বর্ণকাপ ফুটবল প্রতিযোগীতা উদ্বোধন

অনাগত সন্তানের জন্য আপনি কতটুকু প্রস্তুত

শুধু সন্তান জন্মদানই কিন্তু বাবা-মা’র একমাত্র দায়িত্ব হতে পারে না। তার আগমন, ভবিষ্যৎ- সবকিছু নিয়েই বাবা-মা কে হতে হবে তৎপর। আনন্দের মাঝে ভুলে যাওয়া চলবে না- একটি সন্তান নিজের সাথে একটি প্রাইজ-ট্যাগ নিয়ে আসে।

সন্তান আগমন জনিত খরচ জোগাতে আপনার হাতে আছে সম্পূর্ণ নয় মাস- খুব কম সময় কিন্তু নয়। এর মধ্যেই আপনি গুছিয়ে নিতে পারেন অনেকটুকুই।

১. বিবেচনা করে ডাক্তার নির্বাচন করুন

কিছু ব্যাপার আপনার মাথায় রাখতে হবে- বাসা থেকে ডাক্তারের চেম্বারের দূরত্ব, হসপিটালের খরচ, কেবিন ভাড়া, জন্মদান-পরবর্তী সমস্যা কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা। মূলত, প্রাকৃতিক ভাবে (নরমাল ডেলিভারি) সন্তান জন্মদান, সার্জারীর মাধ্যমে জন্মদানের তুলনায় কম খরচদায়ক। কিন্তু, তা আপনার হাতে নেই। তাই প্রস্তুত থাকতে হবে যেকোন পরিস্থিতির জন্য। হসপিটাল যদি বাড়ির কাছাকাছি হয়, তাহলে তো কথাই নেই। খরচের সাথে সাথে মা ও সন্তানের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হয়।

২. ম্যাটারনিটি – প্যাটারনিটি/ স্পাউস বেনিফিট

আজকাল অনেক বেসরকারী প্রতিষ্ঠানই, এক্সট্রা বেনিফিট হিসেবে ম্যাটারনিটি (মা’র কর্মক্ষেত্রে) বা প্যাটারনিটি (বাবার কর্মক্ষেত্রে)বেনিফিট প্রদান করে থাকে। কথা বলে দেখুন, আপনার অফিসের মানবসম্পদ বিভাগের সাথে।কখনো বেনিফিট ১০০% দেয়া হয়, কখনো তা ৫০%, বা কখনো কিছু হসপিটাল নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়। খোঁজ নিন, নিশ্চিত হন, এবং পরিকল্পনা গ্রহন করুন সেই অনুযায়ী। মনে রাখবেন, কর্মক্ষেত্রে বিল জমা দেয়ার পর তা পরিশোধ করা হয়। সুতরাং, প্রাথমিক ভাবে আপনাকেই বিল পরিশোধ করতে হবে।প্রস্তুত থাকুন সেই ভাবেই।

৩. কেনাকাটা করুন বুদ্ধি করে

যদিও প্রথম সন্তান সবসময়ই বিশেষ কিছু, তারপর ও সন্তানের প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার সময় একটু বুদ্ধি খাঁটিয়ে কিনতে হবে। এক্ষেত্রে পরামর্শ নিতে পারেন, অভিজ্ঞদের। অভিজ্ঞ মা,রা আপনাকে ঠিক মত গাইড করতে পারবে। আজকাল অনেক বেবী প্রোডাক্ট সুপার শপ রয়েছে। আপাত দৃষ্টিতে, শপগুলো অনেক লোভনীয় মনে হলেও সেসব শুধু উপহার হিসেবেই কেনা উচিৎ। নিজের সন্তানের জন্য, যখন চাহিদার তুলনায় মূল্যটা একটু বেশীই হয়ে থাকে, তখন বিকল্প চিন্তা করে রাখাই ভাল। এবং, আপনি নিশ্চিত থাকুন, মা-বাবা হিসেবে, সন্তানের জন্য আপনার সিদ্ধান্ত কখনোই ভুল হবে না, তার জন্য আপনি সবচেয়ে ভাল প্রোডাক্টই বেছে নিবেন।

৪. অনাগত সন্তানের যেকোন আনন্দের উপলক্ষ্যকে হ্যাঁ বলুন

বাঙ্গালী উৎসবমুখর জাতি। যেকোন উপলক্ষ্যে তারা উৎসব- হৈহুল্লুড়ের আয়োজন করতে পছন্দ করে। তার উপর নতুন মেহমানের আগমন হলে তো কথাই নেই। আজকাল দেশে- বিদেশে বেবী শাওয়ার, বা সাধ অনুষ্ঠান বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। আপনি ই বা পিছিয়ে থাকবেন কেন? এতো বাবা-মা হিসেবে আপনাদেরই স্বীকৃতি প্রদান। খুশীমনে উপলক্ষ্যটিকে মেনে নিন। উপহার হিসেবে আপনি আপনার চাহিদাগুলো বলে দিতে পারেন, বা যা ই উপহার হিসেবে পান না কেন, আপনার ই কাজে আসবে।তা দেখে আপনি ও সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, আপনার পরবর্তী কেনাকাটা নিয়ে।

৫. কিছু জিনিস প্রয়োজন অনেক, তাই কিনুন অনেক

মা হবার আগে থেকেই কিছু ব্যাপারে আমাদের জ্ঞান থেকেই থাকে। যেমন- সন্তানের সাথে সাথে আপনার প্রয়োজন বিশাল অংকের ডায়পার এবং ফর্মূলা। কিনে রাখুন একটু একটু করে, কোন ক্ষতি নেই।অবশ্যই কেনার আগে মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ দেখে কিনবেন।

৬. প্রয়োজনকে “হ্যাঁ” বলুন

আবেগতাড়িত হয়ে কিছু না কেনাই ভাল। “প্রয়োজন” কে মাথায় রাখুন, “আবেগ” কে নয় । হয়তো কথাটা বলা সহজ, মানা কঠিন, অনাগত সন্তানকে নিয়ে আপনার অতি আবেগ থাকাই স্বাভাবিক। তারপর ও, যতটুকু পারা যায়, প্রয়োজনীয়, সন্তানের কাজে লাগে এমন জিনিস কিনুন। প্রাধান্য দিন, সন্তানের প্রয়োজনকে, আপনাকে নয়।

৭. সন্তানের সাথে সাথে মা’র যত্ন

শুধুমাত্র সন্তানের কথা চিন্তা করলে হবে? সন্তান জন্মদানকারী মা’র কথাও তো ভাবতে হবে। গর্ভাবস্থায় হরমোনের এদেক-সেদিকে মা’র মানসিক অবস্থার পরিবর্তন হয় যখন তখন। মা কে সময় দিন, তাঁকে উপলব্ধি করান তার প্রয়োজনীয়তা। পূরণ করুন তার চাহিদাসমূহ। মনে রাখবেন, একজন সুস্থ্য মা’ ই সুস্থ্য সন্তানের জন্ম দিতে পারে, বেঁচে যেতে পারে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত খরচ। আর সকল সঞ্চয় তো সন্তানের জন্যই- তাই নয় কি? যত্ন নিন মা’র। একি সাথে আপনি নিশ্চিত করছেন সন্তানের সুস্থ্যতা।

আপনার সন্তান আপনারই বংশধারা নিশ্চিত করে।একটু সচেতনতায় আপনার সন্তান কে দিতে পারেন একটি নিশ্চিত আগমন, সেই সাথে দূর হয়য় আপনার কপালে চিন্তার রেখা।

error: Content is protected !!